
এম. সালাহ উদ্দিন আকাশ, উখিয়া নিউজ ডটকম :
ড. মাহবুবুল হক একজন গবেষক, ভাষাবিদ ও অধ্যাপক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ এবং পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতায় অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি প্রায়োগিক বাংলা ও ফোকলোর চর্চা, গবেষণা, সম্পাদনা, অনুবাদ ও পাঠ্যবই রচনা করে তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন দেশে ও দেশের বাইরে। বাংলাদেশ, ভারত ও পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়েছে চল্লিশটির বেশি বই। ড. মাহবুবুল হক বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডসহ নানা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন বিশেষজ্ঞ হিসেবে। প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে তাঁর। আজ ৩ নভেম্বর ড. মাহবুবুল হক পূর্ণ করবেন ৭০ বছর।
মাহবুবুল হকের জন্ম ১৯৪৮-এ ফরিদপুরে। বাবার চাকরিসূত্রে চট্টগ্রামে আসা এবং স্থায়ীভাবে বসবাস। সদা প্রগতিমুখীনতা, মানবতাবাদী জীবনবোধ, আধুনিক মননশীলতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিরন্তর প্রেরণা জুগিয়েছে তার ব্যক্তি ও কর্মজীবনে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অধ্যাপনার পাশাপাশি দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছেন বাংলা ভাষা নিয়ে। ষাটের দশকে চট্টগ্রামে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির নিরলস কর্মী ছিলেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের তিনি ছিলেন একজন সক্রিয় সংগঠক।
বাবা আবদুল মালেক মোল্লা ছিলেন রেলওয়ের ডেপুটি অ্যাকাউন্টেট জেনারেল। কবিতা লেখা ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। মা মোসাম্মৎ হাজেরা খাতুন এখনো পরিবারের ছায়াদাত্রী। মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ছেলের কাছে রাখা বিপ্লবী কালীপদ চক্রবর্তীর অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি রক্ষা করেছিলেন।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৪ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৬৬ সালে এইচএসসি এবং একই কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে বাংলায় স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা এমএতে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় হন। এখান থেকেই ড. মনিরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৯৭ সালে। গবেষণার বিষয় ‘তিনজন আধুনিক কবি: সমর সেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও সুকান্ত ভট্টাচার্য।’
স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখির শুরু। অষ্টম শ্রেণিতে ‘নবদিগন্ত’, নবম ও দশম শ্রেণিতে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল বার্ষিকী সম্পাদনার মাধ্যমে সম্পাদনায় হাতেখড়ি। ১৯৬৪ সালে দ্বিমাসিক সাহিত্যপত্র ‘কলরোল’ সম্পাদনা করেন। এ পত্রিকাতেই একুশের প্রথম আলেখ্য-উপন্যাসিকা ‘লাল রং পলাশ’ প্রকাশিত হয়। ১৯৬৭ সালে ‘মিছিল’, ‘অন্বেষা’, ‘পদাতিক’, ‘রবিকরে কবিকণ্ঠ’; ১৯৭৯ সালে ‘সাহসী ঠিকানা’, ১৯৮১ সালে ‘চিটাগাং গাইড’, ১৯৯৫ সালে ‘হাজার বছরের চট্টগ্রাম’, ১৯৯৭ ও ২০০১ সালে ‘আজিকে এ আকাশতলে’ সম্পাদনা করেন। আবুল ফজল, আবদুল হক চৌধুরী, ওহীদুল আলম প্রমুখের প্রয়াণ স্মরণপত্রসহ বহু স্মরণিকা ও সংকলন সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পেয়েছেন বাংলা একাডেমী, নজরুল পদক, মধুসূদন পদকসহ বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা।

পাঠকের মতামত